তিনটে ঘটনা

আজ আচমকা তিনটে ঘটনা হলো আকটার পর একটা । তেমন আহামরি কিছু না হলেও ,আমার নিস্তরঙ্গ জীবনে একদম ব্যাক টু ব্যাক এরকম অনেক দিন পর।

১) প্রথম ঘটনা টা হলো ওই ১২ টার দিকে।কাজ করতে করতে মাঝে মাঝেই আমার ফোনের দিকে চোখ যায়।খানিকক্ষণ ফোন ঘেটে ফের কাজে ফিরে আসি। আজ নেট অন করেই দেখি জিও রিচার্জ এর একটা পপআপ এসে হাজির একদম সম্মুখে। বলছে ১৩ তারিখ আমার ডেটা প্যাক শেষ তাই রিচার্জ করুন ৩৯৮ দিয়ে।ভাবলাম করেই ফেলি ।যেমনি ভাবা তেমনি কাজ ।করে ফেললাম রিচার্জ ,প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আর একটি পপআপ।এবার বললো,আমি যে ওদের কথা শুনে এখুনি রিচার্জ করেছি,তাতে ওরা ভীষণ খুশি হয়ে আমাকে ১০gb এক্সট্রা ডাটা দিতে চাই। আমি মহা আনন্দে উত্তাল হয়ে উঠলাম।কারণ ইদানিং আমার আর একদিনে এক gb তে কুলচ্ছেনা।তাই প্রতিবারই একরকম আলাদা করে একটা add on রিচার্জ করতে হয়।তাই jio এর এই প্রস্তাবে আমি লাফাতে লাফাতে গিয়ে add on টি এক্টিভেট করে দিলাম।ওই খানেই ঘটলো বিপত্তি। সব শেষে চেক করতে গিয়ে দেখি ওই ১০gb টা এক্টিভেট তো হয়েছে ,কিন্তু ভালিডিটি১৩ তারিখ এই শেষ। চুল ছিঁড়বো কিনা ভাবছি এমন সময় ঠিক উপরে তাকিয়ে দেখি আগের add on pack এর এখনো ৮gb রয়েছে,এবং এটিও ১৩তারিখ শেষ হবে। হা ভোগদা এতুমি কি করলে।এই লোভ সামলে যদি আমি আর কটা দিন পর রিচার্জ টা করতাম,তাহলে ভালইডিটি পেতাম পুরো ৩মাস😟
এজন্যই বলে লোভে পাপ পাপে lose 😏

২) এত এক্সট্রা ডাটা কি হবে।খাবো না মাথায় দেব।ভাবতে ভাবতে সব কাজ গুটিয়ে আমি ফেসবুক,whatsapp, youtube, hoichoi সব app খুলে দিলাম। কিছুততেই আমি এত gb ডাটা নষ্ট হতে দেবনা। হৈচৈ টিভি তে একটি ওয়েব সিরিজ দেখছি গত দুই সপ্তাহ ধরে। “একোন বাবু”। একোন বাবুর চরিত্রে অভিনয় করছেন যিনি তাকে ঠিক ফেলুদার বন্ধু লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর মত দেখতে এবং ঠিক ওমন ধারায় কৌতুক প্রিয়। তা যাইহোক আমার গল্পের মধ্যে তার প্রসঙ্গ নেহাতই সূচনা মাত্র। একোন বাবু দেখা শেষ করে আমি ভাবতে লাগলাম আর কি দেখা যায়। এপাস ওপাস করে ঘটতে ঘটতে আর একটা শর্ট ফিল্ম দেখতে পেলাম। নাম “বাক্স বন্দী”
শুরু করলাম দেখা। এই বার সেই চমক। একটি বাসের সিন। বাস টি ফাঁকা ,পেছনের সিটে বসে রয়েছে গল্পের প্রধান চরিত্র । এবার চোখ গেল বাস এর কন্ডাক্টর এর দিকে।ওমা এটা কে,বিট্টু না!!  আমার চোখ চক চক করে উঠলো। এত অর্ণব কাকুর ছেলে বিট্টু। বিট্টু আমার ছোট্ট বেলার খেলার সাথী। ওই ছিল আমার বড় দার পর আমার একমাত্র খেলার সঙ্গী ,ভাই। আমার স্মৃতির প্রত্যেকটা বিকেলে আমরা খেলা করছি বলেই মনে পরে। আমাদের খেলাটার নাম দিয়েছিলাম লেবরটারী ।কারণ সে খেলায় আমরা দুজন বিজ্ঞানী সাজতাম এবং নানান ধরণের অবিশ্বাস্য জিনিস আবিষ্কার করতাম।😂 ওকে দেখে আমার ছেলেবেলার কত কথা কত স্মৃতি মনে এসে আঁকিবুকি কেটে গেল ।মন আনন্দে ভরে উঠলো।বহু বছর আগে শেষ বার দেখেছিলাম যখন ও বেশ ছোট ছিল।বাবা কে ফোন করে জানলাম এখন জব করে,কলকাতাতেই আছে।ফোন নম্বর নিলাম,ফোন করব আজ রাতে।

৩)এবার আসি শেষ ঘটনায়।সকালে আজ রান্না করিনি ,অগত্যা লাঞ্চ আজ হবে বাইরে।আর এই গরমে কিছু ভাল্লাগেনা বলে দু দিন ধরে লাঞ্চ টা আমি দৈ-বড়া দিয়ে সারছি। গত কাল আমার এক কলিগ ও গেল আমার সাথে খেতে। তা যাইহোক ওখানে গিয়ে কাল হটাৎ দেখা হয় আমাদের একজন সিনিয়র এর সাথে ।খাবার পর আমাদের কিছুত্ত্বেই টাকা না দিতে দিয়ে উনিই বিল মিটিয়ে দিলেন ।আজ আমি চললাম সেই দোকান টিতে। গিয়ে যথারীতি হাও মাও করে খেয়ে ফেললাম। আর তারপর ২০ টাকা বের করে ছেলেটির হাতে দিতেই সে বললো ,দিদি ৪০ টাকা।কিন্তু কাল আমাদের দুজনের জন্য স্যার যখন টাকা দিলেন তখন নিয়েছিল ৪০।তারমানে কাল আমাদের দুজনের জায়গায় ও একজনের প্লেট এর দাম নিয়েছিল।ভাবা যায়!

About Author

“মেঘ বৃষ্টি” আসলে আমার ডাইরির পাতা। কিছুটা কল্পনা, কিছুটা ছেলেমানুষি, কিছুটা অভিমান আর অনেকটাই স্মৃতি। ছোটবেলা থেকেই লিখতে ভালো লাগতো, ভাবতে ভালো লাগতো। ডাইরির পাতায় কত আঁকিবুঁকি, কত কাটাকুটি, কত দুষ্টুমি আছে। যতটা সম্ভব “মেঘ বৃষ্টি” তে তুলে ধরলাম।

Leave A Reply